তপ্ত রোদে তেলের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা: আয় কমে দিশেহারা রাইডাররা
চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় তেল না পেয়ে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে নতুন করে তেলের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
রোববার (আজ) দুপুরে নগরের টাইগারপাস এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, আবার মাঝেমধ্যে থেমে যাচ্ছে। অপেক্ষমাণ চালকদের চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তি ও ক্লান্তির ছাপ। 
সেখানে কথা হয় রাইড শেয়ার চালক পেয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি জানান, মোটরসাইকেল চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। কিন্তু গত এক মাসে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হওয়ায় আগের মতো ট্রিপ দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, “সংসারে এমনিতেই টানাটানি, এখন আবার তেলের দাম বাড়ার চাপ। এই চাপটা কীভাবে সামলাব বুঝতে পারছি না।”
পটিয়ার বাসিন্দা পেয়ার প্রতিদিন প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে আসেন। আগে দিনে যেখানে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা আয় হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায়।
একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক চালক রিয়াজ উদ্দিন জানান, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে যাত্রী ভাড়ায়।
তিনি বলেন, “ভাড়া না বাড়ালে তো চলবে না। কিন্তু যাত্রীরা সেটা মানতে চাইছেন না। প্রতিটি ট্রিপেই এখন দর-কষাকষি হচ্ছে।”
চট্টগ্রাম নগরের প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই এখন একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ছোট-বড় যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।
নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “দামে বাড়ানো হলো, কিন্তু তেলের সরবরাহ ঠিক নেই। দিনে একবার তেল নিতে গিয়েই দুই-তিন ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।”
অন্যদিকে, তাইমুর রহমান অভিযোগ করেন, বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। তাঁর মতে, জ্বালানি আসলেও তা সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে না।
সকালে একাধিক স্টেশন ঘুরেও তেল না পেয়ে শেষে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, “তেল পাওয়া যেন এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে গেছে।”
জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষা ও মূল্যবৃদ্ধির এই ত্রিমুখী চাপে নগরবাসীর নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
















