আন্তর্জাতিক ডেস্ক | BBC News Bangla
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খবর সামনে এসেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হলেও, এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।
সোমবার ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এরপর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ১৪টি মূল বিষয় প্রকাশ করে। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তির মূল বিষয়গুলো কী?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা। বিশেষ করে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধের বিষয়টি এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
চুক্তির খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের ব্যবস্থাপনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে এবং অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা কমাতে উভয় পক্ষ নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অর্ডার করতে ক্লিক করুন
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত
চুক্তির অন্যতম আলোচিত দিক হলো ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ হওয়া ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে মেহর নিউজ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন প্রতিশ্রুতি
প্রকাশিত খসড়ায় ইরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা এবং অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তির আগে রয়েছে শর্ত
মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ তহবিলের একটি অংশ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পরই চূড়ান্ত শান্তি আলোচনা শুরু হবে।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে যে চূড়ান্ত চুক্তি হবে, তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখনো অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চুক্তির প্রকাশিত শর্তগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কোনো সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কীওয়ার্ড: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি, ইরান নিষেধাজ্ঞা, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শেহবাজ শরিফ, হরমুজ প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধবিরতি, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি।
















