ফরিদপুরে আসামির বাড়িতে গিয়ে এএসআইকে আটকে পিটুনি, ভিডিও ভাইরাল
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে আসামির বাড়িতে গিয়ে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) স্থানীয়দের হাতে আটক ও মারধরের শিকার হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম এএসআই ইমরান হাসান। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার একটি ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরান তখন পুলিশের পোশাকে ছিলেন না; তিনি প্যান্ট ও টি-শার্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। তাঁর মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং মুখে রক্তের দাগ দেখা যায়। এ সময় তাঁকে মারধর করতে দেখা যায় কয়েকজনকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে এক নারীর ঘরে প্রবেশ করে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন এএসআই ইমরান। এ সময় তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়।
জানা গেছে, পাশের বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার সূত্র ধরে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের বাড়িতে যাতায়াত ছিল ওই এএসআইয়ের। এ সুযোগে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার রাতে ওই বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাঁকে হাতেনাতে আটক করে।
তবে এএসআই ইমরান হাসান দাবি করেছেন, তিনি মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও গভীর রাতে একা এবং সাদা পোশাকে সেখানে যাওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অন্যদিকে, মামলার আসামি মেহেদী হাসান দাবি করেন, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি তিনি প্রমাণসহ ধারণ করেন বলেও জানান। শুক্রবার রাতে ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে মারধর করেন। কেন তিনি গভীর রাতে একা ও সাদা পোশাকে সেখানে গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।










